0

সম্প্রীতির ভাষা

আমার গ্রামের স্কুলটা, আমি উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত যেখানে পড়েছি, সেটা পশ্চিমবঙ্গ বোর্ডের। ক্লাস সেভেন ও এইটে সে স্কুলের ছাত্রদের একটা স্বাধীনতা আছে। দু’বছর কাউকে আরবি অথবা সংস্কৃত পরতে হয়। গুটিকয় বই মাত্র। অক্ষর পরিচয়, ব্যাকরণ, অনুবাদ। খুব নম্বর পায় সকলে। মাঝারিরা ষাট আর ভালরা আশির উপরে। সেখানে মুসলিম ছাত্ররা প্রতি বছর আরবি পছন্দ করে। সংস্কৃত নেয়…
Continue reading »

0

পৃথিবীর ফুসফুসের কথা

লেখাটার শুরুতে আথারের কথা মনে পড়ছে। ২০১৫ সালে আথার আমির-উল-সফি খান মাত্র ২৩ বছর বয়সে ভারতের সব থেকে বড় প্রশাসনিক চকরির পরীক্ষায় দ্বিতীয় হয়। সে ছেলে শ্রীনগরে বেড়ে উঠেছে। সে এক অস্থির রাজ্য। তাকে এরকবার প্রশ্ন করা হয়েছিল সে বাকীদের কী কী বই পড়তে বলবে। সাধারণ ছিল সে বইয়ের তালিকা। যাদের এসব পরীক্ষা দেবার মত…
Continue reading »

0

সহবত, সহনশীলতা ও গোপনীয়তার পরিসর কমছে

আমাদের ঘরের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ কত? স্কোয়ার ফিটএর লাখ নিক্তিতে যৎ সামান্য। শোবার জায়গা জুটলে বসার হয়না। ছোট্ট ডাইনিং স্পেস পাশেই রান্নাঘর, বাথরুম। মূল্যবোধের ঠুনকো পরিসর কমছে প্রতি মুহূর্তে। আমরা কজন বাবামা সঙ্গম মুহূর্তে খেয়াল রাখি পাশের শিশুটি ঘুমিয়েছি কিনা! ট্রেনে চলতে গিয়ে বহুজন বেখেয়াল হই তার স্ত্রীটি অসুস্থ বা প্রসূতি বলে স্বামীর কাছে ঘেঁষে…
Continue reading »

0

চ‍্যালেঞ্জ নিবিনা ব্ল

নামটা ব্লু হোয়েল চ‍্যালেঞ্জ। বাংলা কাগজের ভন্ড অনুবাদে যাচ্ছিনা। কারন নীল তিমি এটা শিরোনাম হলে কতটা সেইসব পাঠকের কাছে পৌঁছে যাবে জানিনা। বয়ঃসন্ধির সময় যারা সত্যিই এটার শিকার। সবেমাত্র সেদিন সকালে খবর পেয়েছি। এ রাজ‍্যে প্রথম ব্ল হোয়েলে শিকার পশ্চিম মেদিনীপুরের ১৪ বছর বয়সী অঙ্কন দে। ক্লাস টেনে পড়ত সে। স্বভাব ঐ একটাই কম্পিউটারে আসক্ত।…
Continue reading »

2

ফোনের বাইরে ভাবনার মানবিক ও স্বাধীন রুচির পরিবেশ চাই

হাতের ওপর হাত রাখার স্বাধীনতা

তা হয়ে গেল বেশ ক’বছর। যখন প্রথম ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটস অ্যাপ এল। আমরা তাধিন তাধিন করে মেতে উঠলাম। আহা কী সুন্দর। নতুনের সঙ্গে আলাপ। স্কুল, কলেজে যার সাথে কথায় হত না। নতুন যোগাযোগ ঘটলো জীবনে। মধ‍্যপ্রদেশে থাকা মেজ মাসি। নয়ডায় থাকা নমিতাদি। বেশ চলছিল, কথা, চুটকি, মিমি, ছবি ভিডিও।

এসব বাসি পান্তা এখন। তবে কিছু মসলা জুটুক। লাল, সবুজ, গেরুয়া রঙে মন ভরছে না আর। এবার শুরু হল রঙ মাখামাখি। নিজে যতনা মাখি, ছেটায় অন‍্যের গায়ে। আর পরম তৃপ্তির সুখানুভূতি হতে থাকে রোজ রোজ। আর পাতার পর পাতা খিস্তি খেউর। নারী, ধর্ম, জাত ও নানান বিদ্বেষী যে যত বেশি পটু তার কদর  যেন তত বেশি। ইলিশ-চিংড়ি বিদ্বেষ এখন পৌঁছেছে শিশ্ন ত্বক অবধি; এবং প্রকাশ‍্য।

আপনিও তুঙ্গ-মুহূর্ত-আনন্দে আঙুল ছুঁয়ে মনকে কি সুন্দর নোংরা মাখাচ্ছেন। আমরা সবাই দিকপাল গণমাধ্যম ও রাষ্ট্র বিজ্ঞানে। অস্থি মজ্জাগত চিকিৎসায় থেমে নেই শুধু। আর কষ্ট করে বই না পড়লেও চলে। শেষ কবে একটা বই পড়েছেন স্মৃতি হাতড়ে খুঁজে পাওয়া মুশকিল! তথ‍্য যাচাইয়ের প্রবনতা নেই। অনুরাগের অন্ধত্ব এবং “হিরক রাজার দেশে” বৎ “ঠিক ঠিক ঠিক”!

কলেজে পড়া ছেলে মেয়েদের কয়েকটা খাতা দেখবেন নাকি? সাধারণ বাঙালির কর্ম সংস্থান এর মতই তাদের অনিশ্চিত বাক‍্যগঠন। ভাবনা ও বানানের দুর্দশা অনলাইন চ‍্যাটের মতই স্মাইলি ও অসমাপ্ত অনুভবের। হ্যাঁ খোদ কলকাতার কথা বলছি!

দিল্লি কেন্দ্রীক ইউটিউব ভিডিওতে, বাঙালি সম্পর্কিত অবাঙালিদের ইন্টেলিজেন্স, পোলাইট, ইন্টেলেকচুয়াল, বুকিশ, লেখুকে, কমিউনিজম, কালচারাল, মাছলি ইত‍্যাদি বিশেষ্য বিশেষণ শুনে মন ভরলেও আমাদের দশা কিন্তু বেহাল দপদপি তালপুকুর, ঘটি না ডোবার মত দৈন‍্য।

রাত ফিরতি মেয়ের পিছু নেয় বখাটে। পণ নিয়ে চলে বিয়ে ভাঙা ও খুন। শিশুর স্বাস্থ্য ও শৈশব নিয়ে পাষন্ডতা। কৃষকের ঋণ মকুবের দাবিতে বিক্ষোভ ও গুলি খাওয়া। মিথ‍্যে জঙ্গি দেগে দেওয়া এনকাউন্টার ও পরে বাকীদের নির্দোষ মুক্তি। মুক্তমনাদের গুমখুন। বেকারত্ব, একাকীত্ব, যৌনতা, জাতপাত এসবের কারণে আত্মহনন বা আত্মহননে প্ররোচনায়া। রুটি রুজির পরিষেবার দাবি এড়িয়ে সংলাপ নাটকে টিভির রগরগে আলোচনা। মদতপুষ্ট সাজানো ছবি ভিডিও।

কেউ কুড়ি টাকার চারটে ঠ‍্যাঙ্ ও মাংসের ছালে মাংস ভাত। কিংবা আমাদের মধ্যবিত্ত দোলাচলে একশো কুড়ি টাকা সেলে এক কিলো মাংস নাকি আধ কিলো। দুই টাকা ফি তে স্বাস্থ্য নাকি দুলাখি বীমা। কনডম ট‍্যাক্স ফ্রি কিন্তুু স‍্যানিটরি ন‍্যাপকিনে কেন ট‍্যাক্স ?

আমরা ভোটার, আপনারা আমাদের নির্বাচনে সাংবিধানিক পদ পেয়েছেন। কাঁধে কাঁধে মেলিয়েছে সব্বাই; নতুনরাও মেলাবে।

স্কুলের গণিতের মন্টু বাবুর কবিতা মুখস্থ জানা এবং প্রাণীবিদ্যার শৈলেন বাবুর ভীড় বাসে বাচ্চা কোলে নেওয়া মা কিংবা বয়ষ্ক দের সিট ছেড়ে দেওয়ার শিখনী পরম্পরা, একরকমের রুচির স্বাধীনতা বইকি!

আপলোড ও ডাউনলোড আছে থাকুক।  আশ্রয়, খাদ্য, শিক্ষা, এবং আরো অনেক কিছু ফোনের ভাবনার বাইরে একটা স্বাধীন পৃথিবী চাই; একটা দারুন ভারত! 

জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় স্তোত্র ও ভারতের সংবিধান এর অর্থ ভাবনা সিনেমা হল, স্কুল, বইয়ের পা়ঁচিল টপকে সবার জীবনের মান ও মাপকঠি হবে। জয় হিন্দ্ !

0

শেষ যাত্রা

আমার কফিন বন্দি লাশ,
পার হয়ে যাবে- রাস্তা, মাঠ, স্মশান-
ঢাকা পড়ে যাবে সব চুমু,
অভিমান মাঝ রাতে।
আর তখন তোমার ব্যস্ত না হবার দিন;
আর গভীর শোকে ছুঁতে চাসনা।
আমি শুধু ভালবেসে খুন হয়ে যাওয়া বডি,
আড়ালে থাকা যন্ত্রণা তখনও!
ডোম বলবে-
শুধু ২০-মিনিট কা খেল,
সাশ্রয়ই এ মরা যেনও
তারপর ধু-এ মুছে নিকটের ভস্ম আহুতি
শুধু পর হয়ে থেকো তখনও।

0

মধ‍্যপ্রাচ‍্যতে বাঙালিরা

আসমা ক্লাস ফোরে পরে। সামনের বছর যাবে হাই স্কুলে। ও বেড়ে উঠছে ওর মায়ের সঙ্গেই। অনেকদিন হল। ওর বাবাকে আর মনে নেই তেমন। সপ্তায় সপ্তায় কথা হয় একটা লোকের সঙ্গে। মা বলে বাবার ফোন। আসমা ভাবী অ্যালবাম থেকে ছবি দেখান। এটা তার বাবা। ওর বাবা আছে দুবাইতে। সোনার কাজে। ফতিমার বিয়ে হয়েছে। দেড় বছর। তবে…
Continue reading »

0

আরও দুটো কবিতা

অরতি বীর্য

হতাশ অনুতাপ ছাঁদে দুজন

কে বলেছে ভালবাসতে

ঠোঁট আর যৌনতা লাগে?

মুঠো ভর্তি আশ্বাস আর;

কান ভর্তি লোম ঢাকা বুক।

শব্দ আদরেই কাটিয়ে দিলাম

কত অচ্ছুৎ বসন্ত-

অসঙ্গমে জন্মেছে লড়াকু সাহস।

 

অতীন্দ্রিয়

আনমনে বাড়ে অদৃশ্য ভ্রুণ-

কি করে মেটাবে তার দাম!

সুডৌল স্তন নেই;

নেই প্রশস্ত যোনি।

হাত আছে পাঁচটা আঙুলের

চালাচালি করে নিস অনন্ত আবেগ।

৭ নভেঃ ১৪, কার্ত্তিক ২০, ১৪২১, শুক্র রাত।

0

প্রবাহ

এরপর যদি

তুমি আমায় ভালোবাসো

তোমার ঠোঁটে দোব

অনেক খবর।

আর কানের লতিতে দোব

তথ্যের চুম্বন।

সোনার মেয়ে ভালবাসবে তো!

যখন-তখন অসময়েও?

0

পাশবালিশ

এমন কেন সত্যি হয় না

কোনোদিন!

মাঝরাতে ঘুম ভেঙে দেখি

আমায় জড়িয়ে শুয়ে আছো

পাশের বালিশে।

আমি সব কষ্ট ভুলে শান্তিতে

ঘুমিয়ে পড়বো আবার।